গ্রীনবাংলা টুয়েন্টিফোর ডট কম:

আন্তর্জাতিক বাজারে খুলনাঞ্চলের উৎপাদিত চিংড়ির কদর বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য চিংড়ি চাষের প্রসারও বেড়েছে। খুলনা জেলায় ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষের প্রসার বেড়েছে। বিশ্বের ২১ টি দেশে খুলনার চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে। বছরে আয় হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা।
সবচেয়ে বেশী হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানী করা হয় ইউরোপীয় দেশ সমুহে। জাপান, গ্রীস, সাইপ্রাস ,বেলজিয়াম, আমেরিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানী, সৌদিআরব, হংকং, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইটালী, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, বেলারাস, ডেনমার্ক, স্পেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানী করা হয়।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার বলেন, জেলায় মোট ৫৮ হাজার ৯৬৮টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ২৮৮টি বাগদা চিংড়ি ঘের এবং ৩৪ হাজার ৬৮০টি গলদা চিংড়ি ঘেরে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মৎস্য ঘেরের রেজিষ্ট্রেশন করতে কোন অর্থের প্রয়োজন না হলেও, জমির মালিকানা কাগজপত্র জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়।
কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামের ঘের মালিক জি এম অজিয়ার রহমান বলেন, ঘেরে চিংড়ি চাষের মাধ্যমে দেশে সরকার ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আর্জন করে। ঘেরের ওপর স্থানীয় জনসাধারণে কর্মসংস্থানও নির্ভর করে। আইলা পরবর্তীতে মাছ চাষে মড়ক ও অন্যান্য রোগে ঘের মালিকরা দারুণ ভাবে তিগ্রস্থ হলেও সরকার কার্যকরী ভবে এগিয়ে আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়,  সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরেও প্রায় অর্ধল ঘের রয়েছে। আইলায় দুর্গত খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় আইলা বিধ্বস্থ হওয়ায় এই মুহুর্তে পূর্বের ন্যায় ব্যাপক ভাবে ধান চাষ করা সম্ভব নয়। যার জন্য নতুন ঘেরের সংখ্যা বেড়েছে।
জাতীয় রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো পরিচালক মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখে চিংড়ি শিল্প। চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশরোধ ও স্বাস্থ্য সম্মত ও পরিকল্পিত উপায়ে মাছ চাষ ও সংরণ করতে না পারায় বিশ্বে চাহিদা কমে যাচ্ছে। চাহিদা বাড়াতে হলে মাছ চাষীদের সচেতনাতা বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
নতুন বাজার এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী এস এম মনিরুজ্জামান মন্টু এ প্রতিবেদককে বলেন, হিমায়িত মাছ বাজার জাত করনে সরকারকে উদ্যোগী ভুমিকা পালন করতে হবে এবং মাছ প্রক্রিয়াকরণের েেত্র উন্নত প্রঙুক্তি ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাছ উৎপাদন ও সংরণের েেত্র উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের সহজ শর্তে সুদ মুক্ত ঋণ সুবিধা দিয়ে মাছ চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মোঃ আব্দুল বাকী এ প্রতিবেদককে  বলেন, গত অর্থ বছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৮১ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন চিংড়ি মাছ রপ্তানী করা হয় যার মাধ্যমে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। ২০১১-১২ অর্থ বছরে মার্চ মাস পর্যন্ত ৬১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানী করা হয়েছে এবং যার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

Share this:
Share this page via Email Share this page via Stumble Upon Share this page via Digg this Share this page via Facebook Share this page via Twitter

Comments are closed.